জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্টেট ইউনিভার্সিটির আলোচনা সভা

জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউব)-এর উদ্যোগে গতকাল রবিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারারুল কবির।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তাঁর প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে বাঙালির সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য, ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ওই অবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবেই বৈষম্য ও বঞ্চনার বোধ থেকে আমাদের মধ্যে তখন এক ধরনের গুমোট কষ্ট ও ক্ষোভ ক্রমশই জোরদার হচ্ছিল। আমরা তখন আমাদের জন্য একজন নেতা ও অভিভাবক চাচ্ছিলাম। বস্তুত সে নেতা ও অভিভাবক হিসেবেই আবির্ভূত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭২ সালে একটি সদ্যস্বাধীন নতুন দেশের অর্থনীতিকে বঙ্গবন্ধু এ দেশের খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতি রেখে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আর তা করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা কমিশন গড়ে তোলা এবং সেখানে তিনি দেশের সবচেয়ে মেধাবী দেশপ্রেমিক মানুষদের নিয়োজিত করেছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ বস্তুতই এক অভিন্ন সত্তা। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার মাধ্যমে পরোক্ষে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকেই তুলে ধরেন। ছয় দফার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আসলে বাঙালি জাতিসত্তার সার্বভৌমত্বেরই প্রতিষ্ঠা।
পরবর্তীতে একাত্তরের ৭ই মার্চ তিনি যে ভাষণ দেন, তা অনেকটা ৬ দফারই সম্প্রসারণ। তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণের পর স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও কোনো সমস্যা ছিল না। কারণ ৭ই মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার প্রকারান্তরিক ঘোষণা।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির তাঁর সভাপতির ভাষণে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অকাল অন্তর্ধান না ঘটলে বাংলাদেশ আজ আরও বহুদূর এগিয়ে যেত। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা মহামানব বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ব্যবসায় অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক উম্মে নূসরাত উর্মি।